Tuesday, November 11, 2014

অপ্রকাশিত ভালবাসা

মায়াবিনি......
আচমকা মধ্য রাতে যদি কোনো কিছুর স্পর্শে
তোমার ঘুম ভেঙ্গে যায়,
তাহলে তুমি ভয় পেওনা,
ভয় পেওনা আমার স্পর্শ কিনা এই ভেবে।
ভয় নেই তোমার___
আমি তোমার থেকে,
যোজন যোজন মাইল দূরেই আছি।
অদৃশ্য স্পর্শটুকু আমার অপ্রকাশিত ভালবাসার।
তাকে বেঁধে রাখার কোনো অস্ত্রই নেই যে বেঁধে রাখি।
লাগামহীন ভালবাসার প্রজাপতিটা কোন অবসরে
তোমার দাঁড়প্রান্তে গিয়ে আঘাত হেনেছে তা আমার অজানা,
দোষ দিওনা,করোনাকো আমায় দোষী।।
যদি অব্যাক্ত ভালবাসার আঘাত তুমি
সইতে না পারো,তবে,
করোনা গো আমায় মার্জনা।
তবু হাত বাড়িয়ে একবার ছুঁয়ে দেখোনা,
সে কি আমার ছায়া,নাকি তোমার
তোমার কল্পনাবিলাস!!!

পৃথিবী কত সুন্দর তুমি আছো বলে

১৫ই জুলাই ২০১৪, হাতে একটি ছোট্ট কাগজ নিয়ে দাড়িয়ে আছে বালকটি। কাগজের মধ্যে হাবিজাবি কিছু শব্দ, দীর্ঘ ২৫ দিন ধরে সে লিখেছে । লিখতে গিয়ে এরকম ছোট্ট কাগজ অনেকবার-ই সে ছিঁড়ে ফেলেছে, আবার নূতন চিরকুটে জন্ম দিয়েছে এলোমেলো বর্ণগুলি । জুলাই মাস একটু বেশিই লোডশেডিং হয়, বাইরে এই ঘন কালো আঁধারের মাঝে চিরকুট নিয়ে আশার আলো জ্বেলে রেখেছে বিজলী । কিশোরীর হাতে ধরিয়ে দিয়েই এক ভোঁদৌড়, কিশোরী কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি, শুধু বুঝেছে তাঁর হাতে একটি ছোট্ট কাগজে কাঙ্খিত কিছু শব্দগুলি ইশপিশ করছে । তাঁর চিঠির উত্তরের শব্দগুলি ছুঁতে গিয়ে কিশোরীর নিজেই একটু বিব্রতঃ

- “আপনি অনেক খারাপ লোক, ভীষণ খারাপ । এতটা খারাপ আমি কখনো ভেবে দেখিনি, আপনি কেন আমার মনের মাঝে এসে সবকিছু তছনছ করে গেছেন? আমি এই ২৫ দিন অনেক ভেবেছি, অবশেষে আর পারিনি নিজেকে সামলাতে, আমাকে সারাজীবন সামলাতে পারবেন তো?”

প্রথম প্রেম, আজ কিশোরীর হারিয়ে যাবার দিন, কোথায় হারাবে সে জানেনা । সে বারবার শুধু চিঠি টি পড়েই যাচ্ছে, চিঠির উত্তর নিয়ে হয়তো টেনশনে পড়ে গেছে, সে তো নিজেই নিজেকে সামলাতে পারেনা তারপর আবার একটি ছেলেকে সামলানো । মোবাইল ফোন এখনও সাধ আর সাধ্যের মধ্যে আসায় বালিকার পরিবারে, তাই গুটি কয়েক চিঠি চালচালির পর বিরক্ত হল চিঠিতে বন্দী থাকা শব্দগুলি, তাঁরা জীবন্ত হতে চায় দুটি মুখের মাঝে । ডিসিশন ফাইনাল সাক্ষাৎ করবেই বালক, বইখাতা গুলি আজ ভার্সিটি ফাঁকি দিয়ে কাব্য লিখবে অজানা গন্তব্যের।

দুটি পাতা একটি কুড়ির বাগান ছিল পরিচিত জায়গা, একটি কুঁড়িতে যেন মিলে যাবার প্রতীক্ষা । প্রথম দেখায় বিজলী লজ্জা পেয়েছিল বেশ তবুও গলার মাঝে আঁটকে থাকলো না কোন শব্দমালার রেশ । অনেক কথা, না বলা কথা বলেই চলেছে দুরন্ত ট্রেনের মত অথচ একটি বারের জন্য স্পর্শ হলনা দুজনার । ফিরে যাবার সময় ও পিছু তাকালো বার কয়েক, বালকের অভিমানের পাহাড় বেড়ে উঠলো মেঘের দেশে মিলে যাবে বলে । কিশোরীর প্রার্থনায় তা বৃষ্টি হয়েও নেমে এলো আবার মাটিতে, এরকম মান অভিমানের গল্প জীবন এঁকেই গেল পেন্সিল স্কেচে ।

বালক ৫ বছর আগে হৃদয়ের মাঝে যে ভালোবাসার একটি চারাগাছ রোপণ করেছিল, তাঁর ডালে বসে আজ অনেক পাখি ভালোবাসার গান করে, পাখিদের কলরবে ভালোবাসা মিলে একাকার হয়ে যায়, কিশোরের বৃষ্টির স্পর্শে বেড়ে উঠা সে গাছের ছায়া আজো বেঁচে থাকে ঘরে ফেরার অপেক্ষায় ।

#পৃথিবী কত সুন্দর তুমি আছো বলে !!!